নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী দণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলায় তার দুই বছরের সাজা হয়েছিল।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ সময় বিদিশার পক্ষে আইনজীবী আতিকুর রহমান জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সৈয়দ গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত বিদিশাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের অ্যারাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়। মামলার বিচার শেষে আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা ওই মামলায় গত ২০ মে বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। পরিচিতদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে বিদিশা তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাটটি ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।

২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন বিদিশা। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে মোশাররফ হোসেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

উল্লেখ্য, বিদিশা সিদ্দিক সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে রয়েছে।